মাদারগঞ্জে ৫৫ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ; সেতুর দাবিতে মানববন্ধন
উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের দক্ষিণ আতামারী নদীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ চলে আসছে।

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আতামারী নদীর ওপর নির্মিত হয়নি স্থায়ী কোনো সেতু। ফলে নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষকে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের দক্ষিণ আতামারী নদীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ চলে আসছে। দক্ষিণ আতামারী, ধারাবর্ষা, গুচ্ছগ্রাম ও শংকরপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে নদী পারাপার হতে হয়। কিন্তু নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় তাদের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে নদী পারাপারের ব্যবস্থা করে আসছেন। কখনো নদীর ওপর মাটি ফেলে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে, আবার কখনো স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে যাতায়াতের পথ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্ষা কিংবা নদীর পানির প্রবাহ বাড়লে এসব অস্থায়ী ব্যবস্থা বারবার ভেঙে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাসিন্দারা।
বিশেষ করে কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নদী পারাপার ও যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই দীর্ঘ সময় রোগী ও তাঁর স্বজনদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনেও নদী পারাপারের সমস্যার প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থায়ী সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে অনেকটা পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে তারা নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছেন। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলতে হবে, সেই প্রশ্ন এখন তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আতামারী নদীর তীরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা নদীর ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ আতামারী, ধারাবর্ষা, গুচ্ছগ্রাম ও শংকরপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া আরও সহজ হবে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা।
এলাকাবাসী আরও জানান, নদী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘবে তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বারবার উদ্যোগ নিয়েছেন। স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। তাই এবার তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান, যাতে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।
সেতু নির্মাণের বিষয়ে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে আতামারী নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি সেতু শুধু নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করবে না; এটি কয়েকটি এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে আতামারী নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি এখন এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, পরিকল্পনা ও বরাদ্দের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে এবং নদীঘেরা এলাকাগুলোর মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।