জামালপুরের মাদারগঞ্জের কৃতি সন্তান আহসান হাবীব রাসেলের নতুন ICT বই এখন সারাদেশে

আকাশ মন্ডল- মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:

জামালপুরের মাদারগঞ্জের কৃতি সন্তান আহসান হাবীব রাসেলের নতুন ICT বই এখন সারাদেশে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মোসলেমাবাদ গ্রামের সন্তান আহসান হাবীব রাসেল এবার লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন সিলেবাসের আলোকে একাদশ–দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি রচনা করেছেন ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)’ বিষয়ক একটি নতুন বই। ব্যাকবোন পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বইটি ইতোমধ্যে সারাদেশে একযোগে বাজারজাত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের লাইব্রেরিতেও বইটি পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ICT একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টির বিভিন্ন অধ্যায়, প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেটাবেজের মতো ব্যবহারিক অংশ নিয়ে ভীতিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের সেই ভয় ও জটিলতা দূর করে বিষয়টিকে সহজ, বোধগম্য ও ব্যবহারিকভাবে শেখানোর লক্ষ্যেই বইটি রচনা করেছেন আহসান হাবীব রাসেল।

বইটিতে নতুন সিলেবাসের আলোকে বিষয়গুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ জীবনে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর মতো প্রয়োজনীয় ধারণা তৈরির বিষয়টিও বইটির অন্যতম লক্ষ্য।

কম্পিউটার ছাড়াই স্মার্টফোনে ICT অনুশীলনের সুযোগ

বইটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ICT-এর বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষ করে HTML, Python ও Database-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কীভাবে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনুশীলন করা যায়, সে বিষয়ে বইটিতে ধাপে ধাপে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই, তারাও স্মার্টফোন ব্যবহার করে এসব বিষয়ে প্রাথমিক ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

বর্তমান সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন থাকলেও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত। সেই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই বইটিতে এই বিশেষ দিকটি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোসলেমাবাদ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আহসান হাবীব রাসেলের শিক্ষাজীবনের শুরু তাঁর নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। মাদারগঞ্জ উপজেলার মোসলেমাবাদ গ্রামের এই সন্তান মোসলেমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুনাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী কলেজ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি (প্রথম শ্রেণি) ও এমএসসি (প্রথম শ্রেণি) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও তিনি একই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

১২ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা

আহসান হাবীব রাসেল গত প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনে তিনি সহকারী প্রোগ্রামার, প্রোগ্রামার ও সিস্টেম এনালিস্ট হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি বইটি রচনা করেছেন। ফলে বইটিতে একদিকে যেমন পাঠ্যবিষয়কে সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ।

শিক্ষার্থীদের আইসিটিভীতি দূর করাই অন্যতম লক্ষ্য

লেখকের মতে, অনেক শিক্ষার্থী ICT বিষয়কে কঠিন মনে করে। বিশেষ করে প্রোগ্রামিং, HTML, ডেটাবেজসহ ব্যবহারিক বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করে। সেই ভয় দূর করে ICT-কে সহজ ও আনন্দদায়কভাবে শেখানোর লক্ষ্যেই বইটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে।

বইটিতে জটিল বিষয়গুলোকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদাহরণ ও ব্যবহারিক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক আহসান হাবীব রাসেলের বক্তব্য

বই প্রকাশের অনুভূতি জানিয়ে লেখক আহসান হাবীব রাসেল বলেন,

«“দীর্ঘদিনের পেশাগত ও পাঠদানের অভিজ্ঞতা থেকে বইটি এমনভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছি, যেন শিক্ষার্থীরা সহজেই জটিল বিষয়গুলো বুঝতে পারে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব জীবনেও আইটি দক্ষতা অর্জন করতে পারে- সেই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”»

তিনি আরও বলেন, জামালপুর জেলার সন্তান হিসেবে তাঁর এই নতুন পথচলায় সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।

মাদারগঞ্জের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়

মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মোসলেমাবাদ থেকে উঠে এসে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন, এরপর দীর্ঘদিন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং এবার লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ- আহসান হাবীব রাসেলের এই পথচলা স্থানীয়দের কাছে অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে নিজ এলাকার একজন সন্তান যখন জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবিষয়ক বই রচনা করে তা সারাদেশে প্রকাশের সুযোগ পান, তখন সেটি এলাকার জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে বই

ব্যাকবোন পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত আহসান হাবীব রাসেলের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)’ বইটি ইতোমধ্যে সারাদেশে বাজারজাত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের নিকটস্থ লাইব্রেরি ও বইয়ের দোকানে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ–দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ICT শেখার ক্ষেত্রে বইটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যবহারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। তবে নতুন সিলেবাসের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে বইটি রচনার উদ্যোগ ইতোমধ্যে মাদারগঞ্জের এই সন্তানকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে- লেখক আহসান হাবীব রাসেল।

মাদারগঞ্জের মোসলেমাবাদ থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই নতুন পথচলা আরও বিস্তৃত হোক-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। লেখক হিসেবে আহসান হাবীব রাসেলের প্রথম বইয়ের জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

জামালপুরের মাদারগঞ্জের কৃতি সন্তান আহসান হাবীব রাসেলের নতুন ICT বই এখন সারাদেশে