ডুও’র যেসব সুবিধা আইফোনের অন্য মডেলে মিলবে না

আগামী অক্টোবরে বাজারে আসতে যাচ্ছে অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন ডুও। এই ফোনটি শুধু ভাঁজ করা যায় এমন নকশার জন্যই আলাদা নয়, এর সফটওয়্যারেও থাকছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। আইওএসের ওপরই তৈরি হলেও ফোল্ডেবল পর্দার সুবিধা নিতে এতে যোগ করা হয়েছে বিশেষ কিছু ফিচার, যা সাধারণ আইফোনে পাওয়া যাবে না।

ডুও’র যেসব সুবিধা আইফোনের অন্য মডেলে মিলবে না

একসঙ্গে দুটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা আইফোনে আইওএস ৪ থেকেই একাধিক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু রাখার সুবিধা রয়েছে। তবে একই সময়ে দুটি অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুযোগ এতদিন ছিল না। আইফোন ডুওতে প্রথমবারের মতো আইপ্যাডের আদলে মাল্টিটাস্কিং সুবিধা যোগ করেছে অ্যাপল। ভেতরের বড় পর্দায় দুটি অ্যাপ পাশাপাশি চালানো যাবে। যদিও আইপ্যাডের মতো ভাসমান উইন্ডোসহ ‘স্টেজ ম্যানেজার’ থাকছে না, তবু একই সময়ে দুটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা কাজের ধরন অনেকটাই বদলে দেবে।

ফোল্ডেবল পর্দার জন্য পুরো আইওএস ইন্টারফেসও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। যেমন, ভেতরের পর্দার এক পাশে অ্যাপ চালানোর পাশাপাশি অন্য পাশে হোম স্ক্রিনও খোলা রাখা যাবে। ব্যবহারকারী সহজেই পাশাপাশি চালানোর জন্য দুটি অ্যাপ নির্বাচন করতে পারবেন। কিছু অ্যাপ আবার বড় ভেতরের পর্দার সুবিধাও নিতে পারবে। বদলে যাচ্ছে স্ট্যাটাস বারের অবস্থান

আইফোন ডুওতে স্ট্যাটাস বারও সাধারণ আইফোনের তুলনায় আলাদা। পর্দার ওপরের পরিবর্তে এটি থাকবে ডান পাশে। সেলুলার নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই ও ব্যাটারির তথ্য একসঙ্গে রাখা হবে, যাতে পর্দার জায়গা কম লাগে।

ডান পাশের অংশেই থাকবে ডক ও ডায়নামিক আইল্যান্ড।

ভাঁজ করার সঙ্গে বদলাবে আইওএসের ধরন

ফোনটি অর্ধেক ভাঁজ করলে আইওএসের ব্যবহারেও পরিবর্তন আসবে। যেমন, কিবোর্ডের মতো ইনপুট অংশ নিচের দিকে চলে যাবে, আর অ্যাপের মূল কনটেন্ট থাকবে ওপরের অংশে।

টেবিলের ওপর ফোন রেখে ভিডিও দেখার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা কাজে আসবে। ফোনের ভাঁজের জায়গা বা হিঞ্জ বুঝে সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ অংশগুলো ক্রিজ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে, যাতে ব্যবহার করতে সমস্যা কম হয়।

ফোনটিকে ‘টেন্ট’ মোডেও রাখা যাবে। তখন এটি টেবিল ঘড়ির মতো ব্যবহার করা যাবে। অ্যালার্ম বেজে উঠলে ভেতরের পর্দাটিও জ্বলে উঠবে।

ক্যামেরায় থাকছে নতুন সুবিধা

ফোল্ডেবল নকশার কারণে ক্যামেরাতেও বেশ কিছু নতুন সুবিধা যোগ হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘স্মার্ট টেক’। এআইয়ের সাহায্যে ব্যবহারকারী ক্যামেরার সামনে পোজ দিলে কোনো বোতাম চাপা বা টাইমার সেট না করেই ছবি তোলা যাবে।

বাইরের পর্দাটিকে লাইভ ক্যামেরা প্রিভিউ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি বা ভিডিও করার সময় বাইরের পর্দায় নিজেকে দেখা যাবে। অন্য কাউকে ছবি তোলার সময় কীভাবে পোজ দিতে হবে, সেটিও সহজে বোঝানো যাবে।

শিশুদের ছবি তোলার জন্য রয়েছে ‘কিড কিউ’ মোড। এতে বাইরের পর্দায় স্নুপি অ্যানিমেশন দেখানো হবে, যাতে শিশুরা ক্যামেরার দিকে তাকায়।

ফেসটাইমেও নতুন সুবিধা থাকছে। একই সময়ে ফোনের সামনের ও পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে। ফলে ভিডিও কলে নিজের সঙ্গে আশপাশে থাকা অন্য ব্যক্তিদেরও দেখানো সহজ হবে।

সব ক্যামেরা সুবিধা অবশ্য থাকছে না

তবে আইফোন ডুওতে আইফোন ১৮ প্রোর সব ক্যামেরা সুবিধা থাকছে না। এর মধ্যে নতুন ভ্যারিয়েবল-অ্যাপারচার লেন্স ও প্রো কন্ট্রোলের মতো ফিচার নেই।

তবে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন হিসেবে আইফোন ডুওতে সফটওয়্যার ও ক্যামেরায় যোগ করা নতুন সুবিধাগুলো ফোনটির ব্যবহারকে সাধারণ আইফোনের তুলনায় বেশ আলাদা করে তুলেছে।