খাদ্যের গল্প শুরু হয় মাটি থেকে

খাদ্যের পুষ্টিমান জানা যেমন জরুরি, তেমনি জানা জরুরি খাদ্য কোথা থেকে আসছে, কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং সেই উৎপাদন মানুষ ও প্রকৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

খাদ্যের গল্প শুরু হয় মাটি থেকে

আমরা যখন এক থালা ভাত খাই, তখন সাধারণত চালের দাম, রান্নার খরচ কিংবা স্বাদের কথা ভাবি। কিন্তু সেই চাল উৎপাদনের পেছনে থাকা মাটি, পানি, বীজ, কৃষকের শ্রম, আবহাওয়া এবং অসংখ্য জীবের ভূমিকা কতটা মনে রাখি?

মাটির উর্বরতা, অণুজীবের কার্যক্রম, পরাগায়নকারী পতঙ্গ, জলাভূমি, নদী এবং স্থানীয় বীজের বৈচিত্র্য- এসবই খাদ্য উৎপাদনের প্রাকৃতিক ভিত্তির অংশ। এই ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আজকের উৎপাদন ধরে রাখাও আগামী দিনে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাই খাদ্যব্যবস্থার মূল্যায়ন শুধু কত টন ফসল উৎপাদিত হলো, তা দিয়ে করা যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে, উৎপাদনের ফলে মাটির স্বাস্থ্য কেমন থাকছে, পানিসম্পদ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য টিকে থাকছে কি না এবং কৃষক তাঁর শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কি না।

এখানেই প্রকৃতিগত কৃষির গুরুত্ব। এমন কৃষিব্যবস্থা প্রয়োজন, যা খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি মাটি, পানি, বীজ ও প্রাণবৈচিত্র্যের পুনরুজ্জীবনকে গুরুত্ব দেয়। রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার, বিকল্প কৃষিপদ্ধতি কিংবা কোনো খাদ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে- শুধু ধারণা বা প্রচারণার ভিত্তিতে নয়।

খাদ্যনীতি হবে মানুষের, প্রকৃতিরও- খাদ্যনীতির কেন্দ্রে মানুষ থাকবে- এটি স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা প্রকৃতির সুস্থতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির অবক্ষয়, পানি দূষণ এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই খাদ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষক উৎপাদনের প্রণোদনা পান, ভোক্তা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পান, খাদ্যশিল্প দায়িত্বশীল থাকে এবং প্রকৃতির পুনরুৎপাদনক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে।

এ জন্য প্রয়োজন খাদ্যশিক্ষা, স্বচ্ছ লেবেলিং, শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা, স্থানীয় ও মৌসুমি খাদ্যের প্রসার, খাদ্যের অপচয় হ্রাস এবং প্রকৃতিবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থার বিকাশ। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যকে সাশ্রয়ী করার কার্যকর উদ্যোগও প্রয়োজন।

খাদ্যের গল্প শুরু হয় মাটি থেকে