দেলোয়ার হোসেন মাস্টারকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন
সম্প্রতি তাঁর জানাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (গার্ড অব অনার) বাধা দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলন

জামালপুরের বকশীগঞ্জে মরহুম দেলোয়ার হোসেন মাস্টারকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর জানাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (গার্ড অব অনার) বাধা দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পুরাতন সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংসদের এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী। এ সময় উপজেলার প্রায় ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মৃত দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের জানাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানকালে পথিমধ্যে এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলীসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দেন। তীব্র আপত্তি ও বাধার মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করে।
সংবাদ সম্মেলনে নওশেদ আলী দাবি করেন, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে দেলোয়ার হোসেনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার সনদ বাতিল করেছিল। মৃত দেলোয়ার হোসেন মাস্টারকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত করার বিষয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নামে যে সুপারিশপত্রটি প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভুয়া।
তিনি আরও বলেন, "দেলোয়ার হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি কখনো কোনো সুপারিশ করিনি। আমার স্বাক্ষর বা নাম ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এই ভুয়া সুপারিশপত্র ছড়িয়ে দিয়েছে।" সংবাদ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মরহুম দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের সহোদর ছোট ভাই ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন উপস্থিত হয়ে তাঁর বড় ভাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা দাবির বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, "আমার সঙ্গে রণাঙ্গনে দেলোয়ার ভাই ও আরও দুই ভাই ছিলেন, কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। তিনি কোনো মুক্তিযোদ্ধা নন।"
অন্যদিকে, মরহুম দেলোয়ার মাস্টারের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, "একটি কুচক্রী মহলের আবেদনের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ২৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে আমার বাবার সনদ বাতিল করেছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট করলে গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুনঃবহালকৃত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার জন্য আমরা আইনের শরণাপন্ন হব।