শেরপুরে বিষ প্রয়োগে ৩০ হাঁস হত্যার অভিযোগ, বাড়িতে ভাঙচুর
শেরপুর সদর উপজেলার গাজীরখামার কান্দাপাড়ায় বিষ প্রয়োগ করে ৩০টি হাঁস হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় একটি বসতঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন হামিদা বেগম (৪০) নামের এক নারী। এ ঘটনায় তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে হামিদা বেগম বলেন, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। পরে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ আদালতে মামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামিদা বেগমের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে তাঁর পালিত ৩৫টি হাঁস কুড়া খেতে খেতে গাজীরখামার কান্দাপাড়ায় এক ব্যক্তির বসতবাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ের নিচে যায়। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে তিন ব্যক্তি খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁসগুলোর সামনে দেন। ওই খাবার খাওয়ার পর হাঁসগুলো ছটফট করতে শুরু করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে হামিদা বেগম ও তাঁর জা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে ৩০টি মৃত হাঁস বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁরা। এসব হাঁসের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হাঁসগুলোর মৃত্যুর কারণ জানতে হামিদা বেগম ও তাঁর জা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে গেলে তাঁরা ধারালো দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে ঢুকে বসতঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করেন। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হামিদা বেগম শেরপুর সদর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—গাজীরখামার কান্দাপাড়ার মো. আঃ ছাত্তার (৬৫), মোছা. শিল্পি বেগম (৪০) ও মোছা. মেহেরুন নেছা (৫৫)।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে দেখছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
