জামালপুরে পিপিআর ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
জামালপুর প্রতিনিধি:

ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে জামালপুরে টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খামারিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, জামালপুর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ দেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবাদিপশু ও ছাগল-ভেড়ার রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং খামারিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মসূচি সফল হলে খামারিরা রোগের কারণে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ ছানোয়ার হোসেন পিপিআর ও ক্ষুরারোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান, পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি খামারিদের নির্ধারিত সময়ে পশুকে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু পালন ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সরকারি দপ্তর, খামারি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি টিকাদান কর্মসূচিতে খামারিদের অংশগ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে পিপিআর ও ক্ষুরারোগের মতো সংক্রামক রোগের কারণে প্রাণিসম্পদে সম্ভাব্য ক্ষতি, রোগ প্রতিরোধে টিকার ভূমিকা এবং খামারিদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ছাগল ও ভেড়ার নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোগের বিস্তার রোধ এবং প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিত টিকাদান, খামারিদের সচেতনতা এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও খামারিদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
