Tuesday, December 6, 2022
Home জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন সংশোধন ও তামাক কোম্পানি...

তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন সংশোধন ও তামাক কোম্পানি থেকে শেয়ার প্রত্যাহার জরুরী

দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও নীতিতে তামাক কোম্পানিগুলোর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পলিসি’র সুরক্ষায় ‘এফসিটিসি’র আর্টিকেল ৫.৩’ অনসারে গাইডলাইন প্রণয়ন বর্তমান সময়ের দাবী। একই সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতিগুলো যুগোপযোগী করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র প্রত্যয় অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে এর বিকল্প নেই। আজ (২৩ জুন ২০২১) বেলা ১১.০০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র আয়োজনে “কোম্পানির প্রভাব: তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক লাইভ টকশোতে বক্তারা উক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র প্রকল্প কর্মকর্তা আবু রায়হান এর সঞ্চালনায় টক শো-তে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এর আহ্বায়ক ফরিদা আখতার, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালক (স্বাস্থ্য এবং ওয়াশ সেক্টর) ইকবাল মাসুদ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দি ইউনিয়ন’ এর কারিগরী পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।

ফরিদা আখতার বলেন, সরকার একদিকে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছে। আবার অন্যদিকে এ সকল পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করছে। এটা এক ধরনের দ্বৈতনীতি। ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী। একই সাথে তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার করা উচিৎ।

ইকবাল মাসুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবী ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার পরেও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে তামাক পণ্যের কর বাড়েনি কারণ, এর পেছনে কল-কাঠি নাড়ছে তামাক কোম্পানিগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘এমপাওয়ার পলিসি প্যাকেজে’ তামাকের কর বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বাপরোপ করা হয়েছে। সুতরাং, প্রকৃত অর্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আইন সংশোধন, কর সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যহত রাকতে হবে।

এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন,তামাক নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি’, ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ রোডম্যাপ’, ‘জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি’সহ অনেকগুলো নীতি প্রণয়ন দীর্ঘদিন থেকে চলমান। কোন এক অজানা কারণে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো চূড়ান্ত এবং এফসিটিসি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এর ধারা ৫.৩ অনুসারে ‘গাইডলাইন’ প্রণয়ন করা উচিৎ।

সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখনো এমন কয়েকটি আইন ও ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে যেগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে পুরাতন মান্ধাতার আমলের এ আইনগুলো জনবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে হবে। এফসিটিসি অনুসারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তামাক কোম্পানির প্রভাব থেকে নীতি সুরক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেগুলো আমরা অনুসরণ করতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

শোক হোক নতুন প্রজন্মের শক্তি -জি.বি.এম রুবেল আহম্মেদ।

“আগষ্ট তুমি ভয়াবহ কলঙ্ক আর অপমান, তোমার মাঝেই হারিয়েছি

নীলাঞ্জনা তোমার জন্মদিন-মমিনুল ইসলাম

নীলাঞ্জনা তোমার জন্মদিন কলমেঃ মমিনুল ইসলাম তোমার জন্য আরো একটি-নতুন দিগন্তের সাক্ষী হতে চলছে,চারদিকে নীল...

ই অর্গানিক শপ এখন জামালপুরে

Managing a group of researchers is like handling a herd of cats. Every single person of the group has their own...

বিল -জলাশয় রক্ষা করুন

Board room online programs help you control all aboard related tasks and documents efficiently and quickly. They feature tools designed for managing getting together...

Recent Comments

error: Content is protected !!